রোম, ভ্যাটিকান সিটি | ২৯ এপ্রিল ২০২৫
কে হবেন খ্রিস্টান জগতের পরবর্তী ধর্মগুরু?
বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিক গির্জার নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে ৭ই মে, ২০২৫-এ। ওই দিন শুরু হবে ২৬৭তম পোপ নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কনক্লেভ বা পোপ নির্বাচন সম্মেলন। সদ্য প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের আত্মার চিরশান্তির জন্য অনুষ্ঠিত ‘নভেমডিয়ালে’ প্রার্থনা অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ভ্যাটিকানের সিস্টিন চ্যাপেলে।
প্রায় ১৮০ কার্ডিনালের সমাবেশে সোমবার সকালে ৫ম সাধারণ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। তাদের মধ্যে শতাধিক কার্ডিনাল নির্বাচনে ভোটদানের যোগ্য। রোমান গির্জার কার্ডিনালগণ একটি বিশেষ কলেজ গঠন করেন, যাদের দায়িত্ব হল বিশেষ আইন অনুযায়ী রোমান ধর্মপতির (পোপের) নির্বাচন নিশ্চিত করা। তদ্ব্যতীত, কার্ডিনালগণ রোমান ধর্মপতিকে সহযোগিতা করেন—সমষ্টিগতভাবে, যখন তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শের জন্য একত্র ডাকা হয়, এবং ব্যক্তি পর্যায়ে, অর্থাৎ তাঁদের বিভিন্ন দায়িত্বপূর্ণ পদে থেকে, বিশেষ করে প্রতিদিনের কর্মকাণ্ডে, সর্বজনীন গির্জার দেখভালে তাঁকে সহায়তা করেন।
কীভাবে অনুষ্ঠিত হয় পোপ নির্বাচন?
নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত হবে এক বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান—‘প্রো এলিজেন্ডো পাপা’ নামক ইউক্যারিস্টিক মাস। এরপর বিকেলে solemn procession-এর মাধ্যমে নির্বাচক কার্ডিনালগণ প্রবেশ করবেন সিস্টিন চ্যাপেলে, যেখানে প্রতিটি নির্বাচক কার্ডিনাল গোপনীয়তা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার শপথ গ্রহণ করবেন।
এই শপথের মাধ্যমে তাঁরা প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচিত হলে তাঁরা আন্তরিকভাবে গির্জার সর্বজনীন ধর্মপালকের দায়িত্ব পালন করবেন এবং নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য গোপন রাখবেন।
এরপর “Extra Omnes” উচ্চারণ করে সম্মেলন স্থান থেকে সব অননুমোদিত ব্যক্তিকে বাইরে পাঠানো হয়। একজন নির্ধারিত যাজক সংক্ষিপ্ত ধ্যানের মাধ্যমে নির্বাচকদের স্মরণ করিয়ে দেন তাঁদের গুরুদায়িত্ব ও ঈশ্বরের নির্দেশে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা।
ভোট এবং ধোঁয়ার সংকেত
প্রথম দিনের বিকেলে একবার ভোট হয়; পরবর্তী দিনগুলোতে প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে দু’টি করে ভোট হয়। কোনো প্রার্থী দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেলে তাঁকেই নির্বাচিত পোপ ঘোষণা করা হয়।
ভোট শেষে ব্যালটগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়। যদি ফলাফল না আসে, তখন সিস্টিন চ্যাপেলের চিমনি থেকে উঠবে কালো ধোঁয়া। আর পোপ নির্বাচিত হলে দেখা যাবে শুভ্র ধোঁয়া, যা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেবে এক মহাসংবাদের বার্তা।
পোপ নির্বাচনের পরপরই কী হয়?
নির্বাচিত পোপকে প্রশ্ন করা হয়: “আপনি কি এই নির্বাচন গ্রহণ করেন?” সম্মতি দিলে জানতে চাওয়া হয়: “আপনার নির্বাচিত নাম কী হবে?” এরপর কার্ডিনালরা নতুন পোপের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন এবং ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান।
সবশেষে, ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার ব্যালকনি থেকে কার্ডিনাল প্রোটো-ডিকন ঘোষণা দেন:
“Annuntio vobis gaudium magnum: Habemus Papam!”
(আমি আপনাদের এক মহান আনন্দ সংবাদ জানাচ্ছি: আমাদের একটি পোপ আছেন!)
নবনির্বাচিত পোপ সেখান থেকেই প্রদান করেন তাঁর প্রথম “Urbi et Orbi” আশীর্বাদ।
বিশ্বব্যাপী ১৩০ কোটিরও বেশি ক্যাথলিক বিশ্বাসীর হৃদয়ে এখন একটাই প্রতীক্ষা—কে হবেন খ্রিস্টান জগতের পরবর্তী ধর্মগুরু?