চীনা J-10 বনাম ফরাসি রাফাল: অস্ত্র বিশ্লেষণে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক মহল

Kwaja Ashif

দেহাতি জার্নাল: ৯ মে, ২০২৫

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর স্বীকারোক্তি: “সোশ্যাল মিডিয়ার ভিত্তিতে ছড়ানো হয়েছিল যুদ্ধজয়ের খবর”

ভারতীয় রাফাল ভূপাতিত হওয়ার দাবি মিথ্যা প্রমাণিত

ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক আকাশযুদ্ধে রাফাল ভূপাতিত হওয়ার যে দাবি পাকিস্তানের দিক থেকে করা হয়েছিল, তা এখন মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ একটি টেলিভিশন (CNN) সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার যে খবর ছড়িয়েছে, তার ভিত্তি কোনো সরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থার তথ্য নয়, বরং সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো পোস্ট ও গুজব।

সিএনএনের একটি সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে ভারতীয় কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। এই তথ্য সম্পূর্ণরূপে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টের উপর ভিত্তি করে কিছু চ্যানেল প্রচার করেছে।”

এর ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান নিজেই তাদের আগের দাবির ভিত্তিহীনতা মেনে নিল এবং যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমের মধ্যে যে বিভ্রান্তিকর প্রবণতা গড়ে উঠেছে, তার দায়ও অস্বীকার করা যায় না।

কয়েকদিন আগেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়ায় যে চীনা নির্মিত J-10 যুদ্ধবিমান দিয়ে পাকিস্তান ভারতের দুটি রাফাল ভূপাতিত করেছে। এরপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় PL-15 ও মেটিওর ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই দাবি ভিত্তিহীন প্রমাণ হওয়ায় কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে ভারতের অবস্থান অনেকটা দৃঢ় হল।

ভারত-পাকিস্তানের আকাশযুদ্ধকে কেন্দ্র করে এখন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সামরিক মহলে তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়েছে, কারণ এই সংঘর্ষে ব্যবহৃত পাইলটদের কৌশল, যুদ্ধবিমানের পারফরম্যান্স এবং ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যুদ্ধে প্রস্তুতির রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনা PL-15 ক্ষেপণাস্ত্র ও ইউরোপীয় মেটিওর ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে সম্ভবত সংঘর্ষ হয়েছে—যদিও সরকারিভাবে এই অস্ত্রের ব্যবহারের বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানানো হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে PL-15 বনাম মেটিওর নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। PL-15 চীনের সবচেয়ে উন্নত এয়ার টু এয়ার অস্ত্র, যেখানে মেটিওর ইউরোপীয় সংস্থা MBDA নির্মিত রাডার-নির্ভর ক্ষেপণাস্ত্র, যা ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমানে ব্যবহৃত হয়।

আন্তর্জাতিক ইন্সটিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর সামরিক মহাকাশ গবেষক ডগলাস ব্যারির মতে, “এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা—চীনের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র সম্ভবত পশ্চিমের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রের মুখোমুখি হয়েছে। তবে ঠিক কী ব্যবহৃত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।”

একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, PL-15 ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এই অস্ত্র নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক নজর রাখছে। এদিকে, ফরাসি ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও ভারতের দিক থেকে এই সংঘর্ষ নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই ধরণের বাস্তব সংঘর্ষ বিশেষ করে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রতিরক্ষা মহলের কাছে এক অমূল্য শিক্ষা। কারণ এই সমস্ত রাষ্ট্রই ভবিষ্যতে তাইওয়ান বা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বড় সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বের দুই প্রতিপক্ষ ব্লকের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতা সরাসরি সংঘর্ষে এসে পড়ল—একদিকে চীনা নির্মিত যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র, অন্যদিকে ফরাসি প্রযুক্তির রাফাল ও ইউরোপীয় মেটিওর। তাই এই যুদ্ধ শুধুই ভারত-পাকিস্তানের সীমিত লড়াই নয়, বরং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা কৌশলের পরীক্ষাগার হয়ে উঠেছে।

Read more

পাকিস্তান-চীন সামরিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ: নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন