প্রমাণের অভাবে গুজরাট হাইকোর্ট ও ট্রায়াল কোর্টের রায় বাতিল
📅 নয়াদিল্লি, ৫ মার্চ ২০২৫: সুপ্রিম কোর্ট আজ ক্রিমিনাল আপিল নং ১৩৮৮/২০১৪ মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার (abetment) দায়ে সাজাপ্রাপ্ত চার অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছে। গুজরাটের মেহসানা জেলার এই মামলায় নিম্ন আদালত ও হাইকোর্ট অভিযুক্তদের ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছিল, যা সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে।
🔹 মামলার পটভূমি:
➡️ ভিকটিম: দশরথভাই কারসনভাই পারমার
➡️ অভিযুক্ত:
1️⃣ প্যাটেল বাবুভাই মনোহরদাস
2️⃣ দাহ্যাভাই (গীতাবেনের স্বামী)
3️⃣ গীতাবেন (অভিযুক্ত ৩)
4️⃣ যসীবেন (গীতাবেনের মা)
➡️ ঘটনার তারিখ: ২৫ এপ্রিল ২০০৯
➡️ অভিযোগ: ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৬/১১৪ ধারা অনুযায়ী আত্মহত্যায় প্ররোচনা
➡️ সাজা: ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ১০,০০০ টাকা জরিমানা (নিম্ন আদালতের রায়)
🔹 কী ঘটেছিল সেই দিন?
🕛 ২৫ এপ্রিল ২০০৯:
- ভিকটিম দশরথভাই ডাক বিভাগের কর্মী ছিলেন এবং আর্থিক দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সাসপেন্ডেড ছিলেন।
- তিনি বিষপান করে আত্মহত্যা করেন, এবং তার পরিবারের সদস্যরা পরে একটি সুইসাইড নোট খুঁজে পান, যেখানে চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ করা হয়েছিল।
- স্ত্রী জয়বালাবেন পারমার (PW-2) পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে বলা হয় গীতাবেন ও তার পরিবারের সদস্যরা ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করছিলেন এবং বাধ্য হয়ে দশরথভাই আত্মহত্যা করেন।
- প্রাথমিক তদন্তে গীতাবেন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের হয়।
🔹 আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত:
✅ সুইসাইড নোট (suicide note) প্রমাণ হিসেবে দুর্বল: এটি ঘটনার ২০ দিন পর উদ্ধার করা হয়, যা সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
✅ সাক্ষ্যবিরোধী তথ্য: মৃতের বড় ভাই জয়ন্তিভাই (PW-7) নিজের সাক্ষ্য পরিবর্তন করেন, এবং বলেন তিনি জানতেন না কী কারণে ভাই আত্মহত্যা করেছেন।
✅ কোনও প্ররোচনামূলক ঘটনা নেই: সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, অভিযুক্তদের দ্বারা কোনো সরাসরি প্ররোচনার প্রমাণ নেই যা আত্মহত্যার জন্য দায়ী করা যেতে পারে।
✅ পুলিশের ত্রুটি: তদন্তে অভিযুক্তদের কাছ থেকে কোনো টাকা বা গহনা উদ্ধার করা হয়নি, যা ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগকে দুর্বল করে।
✅ সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়:
🔸 নিম্ন আদালত ও গুজরাট হাইকোর্টের রায় বাতিল।
🔸 চার আসামিকে বেকসুর খালাস ঘোষণা।
🔸 যেহেতু অভিযুক্তরা ইতিমধ্যেই জামিনে ছিলেন, তাদের বেল বন্ড বাতিল করা হয়।
🔹 রায়ের গুরুত্ব:
🔸 আত্মহত্যার মামলায় প্ররোচনার অভিযোগের ক্ষেত্রে কঠোর প্রমাণ প্রয়োজন।
🔸 সুইসাইড নোট থাকলেই দোষ প্রমাণ হয় না, বরং নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকা জরুরি।
🔸 পুলিশি তদন্তের গাফিলতি ও সাক্ষ্যবিরোধী তথ্যের কারণে সুপ্রিম কোর্ট কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
📢 আপনার মতামত কী? সুইসাইড নোট ছাড়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা কতটা কার্যকর?
Case meta: PATEL BABUBHAI MANOHARDAS VS. THE STATE OF GUJARAT – Crl.A. No. 1388/2014 – Diary Number 4230 / 2014 – 05-Mar-2025