দেহাতি জার্নাল: ৯ মে ২০২৫
অপারেশন ‘সিন্দুর’: ভারতীয় সেনার ঐতিহাসিক পাল্টা আঘাতে কাঁপল POK ও করাচি, চীন-পাকিস্তান সামরিক জোট নিয়ে উদ্বেগ
৭ ও ৮ই মে মধ্যরাত থেকে শুরু করে ৯ই মে অবধি এক ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এই অপারেশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন সিন্দুর’। এর অধীনে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) অন্তত ১০০ জন পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি, একাধিক লঞ্চপ্যাড এবং একটি প্রধান এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস করা হয়েছে। ৯ই মে ভারতীয় নৌ ও বায়ুসেনার যৌথ আক্রমণে পাকিস্তানের আর্থিক ও সামরিক স্তম্ভ করাচি বন্দরে বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।
পাকিস্তান বায়ুসেনা এখন চীনা প্রযুক্তি ও অস্ত্রের উপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। সম্প্রতি তারা সংগ্রহ করেছে প্রায় ২০টি J-10CE মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান, যা PL-15E দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম। এছাড়াও HQ-9BE ও HQ-16FE নামক আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও Wing Loong II সশস্ত্র ড্রোন পাকিস্তানের বায়ুসেনাকে একটি নতুন প্রযুক্তিগত উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
এই পটভূমিকায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে পাকিস্তান ও চীনের সামরিক সহযোগিতার সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অগ্রগতি। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দোং জুন ও পাকিস্তান বায়ুসেনা প্রধান জাহির আহমেদ বাবর সম্প্রতি বেইজিংয়ে বৈঠকে মিলিত হন। ওই বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া হয়।
চীনা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই পাকিস্তান বায়ুসেনার অস্ত্রভাণ্ডারে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। পাকিস্তান সম্প্রতি চীন থেকে প্রায় ২০টি J-10CE মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করেছে, যা PL-15E নামে সর্বাধুনিক দীর্ঘপাল্লার আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র (১৪৫ কিমি রেঞ্জ) বহন করতে সক্ষম। এই জেটগুলি AESA রাডার সিস্টেমেও সজ্জিত, যা পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায় সূচিত করেছে।
এছাড়াও HQ-9BE ও HQ-16FE নামে চীনা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাকিস্তানে প্রতিস্থাপিত হয়েছে, যার ফলে বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। একইসঙ্গে, Wing Loong II সশস্ত্র ড্রোনের মাধ্যমে পাকিস্তান বায়ুসেনা তাদের নজরদারি ও নির্ভুল হামলা চালানোর ক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে।
এই ক্রমাগত চীনা অস্ত্র আমদানির মাধ্যমে পরিষ্কার যে পাকিস্তান এখন আর আগের মত আমেরিকার উপর নির্ভরশীল নয়। অতীতের পশ্চিমা নির্ভরতা থেকে সরে এসে পাকিস্তান এখন মূলত চীনা প্রযুক্তিকে তাদের প্রতিরক্ষা কৌশলের ভিত্তি হিসেবে বেছে নিচ্ছে। এর ফলে শুধু অস্ত্রশস্ত্রেই নয়, যৌথ সামরিক মহড়া, প্রশিক্ষণ ও তথ্য বিনিময়েও দুই দেশ ক্রমাগত ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।
“চীন ও পাকিস্তানের বন্ধুত্ব সব ঋতুর বন্ধুতা (All-weather friendship)”—এই শব্দবন্ধ এখন শুধুমাত্র রাজনৈতিক ঘোষণাপত্রে নয়, বরং বাস্তব সামরিক প্রস্তুতিতেও প্রতিফলিত হচ্ছে। বৈঠকে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দোং জুন জানান, “চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ জোরদার করতে ও যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে।” জাহির আহমেদ বাবর বলেন, “চীনের দীর্ঘকালীন বন্ধুত্বের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা প্রস্তুত এই সহযোগিতাকে আরও গঠনমূলক স্তরে নিয়ে যেতে।”
বর্তমান ভারতীয় অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে এই সামরিক সহযোগিতার দিকটি বিশেষভাবে আলোচ্য হয়ে উঠেছে। ভারত যখন পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালাচ্ছে, তখন চীন ও পাকিস্তানের এই ঘনিষ্ঠতা ভারতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকেও পর্যবেক্ষণযোগ্য বিষয়।
ভারতের ৭-৯ই মে অভিযান শুধু সীমান্ত পেরিয়ে এক সাহসী পদক্ষেপ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সমগ্র ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যকে নাড়া দেওয়ার মতো ঘটনা। চীন-পাকিস্তান সামরিক সহযোগিতার এই অগ্রগতি ভারতকে ভবিষ্যতের জন্য আরও কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ, কূটনৈতিক কৌশল এবং বহু-মাত্রিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা এখন সময়ের দাবি।
চলমান সংঘাত এবং পার্শ্ববর্তী শক্তিগুলির সামরিক অবস্থানকে সামনে রেখে ভারতের প্রতিটি সিদ্ধান্ত আগামী দিনগুলির দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামো নির্ধারণ করবে।