দুর্লভ আয়ুর্বেদিক পাণ্ডুলিপির পুনর্জীবন: ঐতিহ্যের পথে বড় পদক্ষেপ

দুর্লভ আয়ুর্বেদিক পাণ্ডুলিপির পুনর্জীবন: ঐতিহ্যের পথে বড় পদক্ষেপ. বাংলা দেহাতি জার্নাল


‘দ্রব্যরত্নাকর নিঘণ্টু’ ও ‘দ্রব্যনামাকর নিঘণ্টু’ প্রকাশ করল সিসিআরএএস, উন্মোচন করল প্রাচীন চিকিৎসাবিদ্যার নতুন দিগন্ত

বাংলা দেহাতি জার্নাল: ৮ই মে, ২০২৫

ভারতের প্রাচীন চিকিৎসা জ্ঞানকে সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে, আয়ুষ মন্ত্রকের অধীনস্থ Central Council for Research in Ayurvedic Sciences (CCRAS) দুটি দুর্লভ এবং ঐতিহাসিক আয়ুর্বেদিক পাণ্ডুলিপি — দ্রব্যরত্নাকর নিঘণ্টুদ্রব্যনামাকর নিঘণ্টু — পুনরায় প্রকাশ করেছে।

মুম্বাইয়ের Central Ayurveda Research Institute-এর উদ্যোগে এক অনুষ্ঠানে এই দুই গ্রন্থের উন্মোচন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিসিআরএএস-এর মহাপরিচালক অধ্যাপক বৈদ্য রবিনারায়ণ আচার্য, যিনি নিজের বক্তব্যে সিসিআরএএস-এর গবেষণা, ডিজিটাল সংরক্ষণ এবং প্রাচীন আয়ুর্বেদিক সাহিত্যের পুনর্জীবনের প্রচেষ্টা তুলে ধরেন।

এই দুই পাণ্ডুলিপি সুপ্রসিদ্ধ পান্ডুলিপি-বিশেষজ্ঞ ও আয়ুর্বেদাচার্য ডঃ সদানন্দ কামাত-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে। ডঃ কামাত তাঁর জীবনের বহু দশক ব্যয় করেছেন আয়ুর্বেদের মৌলিক পাঠ ও গ্রন্থসমূহের সংরক্ষণে। উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আয়ুর্বিদ্যা প্রসারক মণ্ডল-এর সভাপতি রঞ্জিত পুরানিক, আয়ুর্বেদ মহাবিদ্যালয় সিয়ন-এর অধ্যক্ষ ডঃ রবি মোড়ে, এবং অন্যান্য বিশিষ্ট চিকিৎসাবিদ ও গবেষকগণ।

ডঃ আচার্য তাঁর ভাষণে বলেন, “এই পাণ্ডুলিপিগুলি শুধুমাত্র ঐতিহাসিক দলিল নয়—এগুলি জীবন্ত জ্ঞানভাণ্ডার, যা বর্তমান স্বাস্থ্যচর্চার ধরণ পরিবর্তন করতে পারে।” তিনি আরও বলেন, আয়ুর্বেদের আধুনিক গবেষণায় এই গ্রন্থগুলি গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখাবে।

প্রকাশিত গ্রন্থগুলির মধ্যে দ্রব্যরত্নাকর নিঘণ্টু, যা ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দে মুদ্গল পণ্ডিত রচিত করেছিলেন, মোট ১৮টি অধ্যায়ে ওষুধের প্রতিশব্দ, গুণাগুণ, এবং প্রয়োগ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছে। মহারাষ্ট্রে ১৯শ শতক পর্যন্ত এটি বহুল ব্যবহৃত ছিল। এই গ্রন্থটি বহু অজানা ভেষজ, খনিজ ও প্রাণিজ দ্রব্যের তথ্য ধারণ করে এবং ধন্বন্তরী ও রাজ নিঘণ্টুর উপর ভিত্তি করে রচিত হলেও এতে উল্লেখযোগ্য নতুন সংযোজন রয়েছে।

অন্যদিকে, দ্রব্যনামাকর নিঘণ্টু, যা ভীষ্ম বৈদ্যের রচনা, মূলত ধন্বন্তরী নিঘণ্টুর একটি সম্পূরক গ্রন্থ। এটি এক বিশেষ ধরণের গ্রন্থ যেখানে একাধিক নামবিশিষ্ট ভেষজ দ্রব্যের ব্যাখ্যা রয়েছে। গ্রন্থটি ১৮২টি শ্লোক ও দুটি উপসংহার শ্লোক নিয়ে গঠিত এবং রসশাস্ত্র, ভৈষজ্য কল্পনা, ও ক্লাসিক্যাল আয়ুর্বেদিক ফার্মাকোলজির ছাত্র-গবেষকদের জন্য এক অমূল্য সম্পদ।

এই দুই গ্রন্থ শুধুমাত্র গবেষণার পরিধি প্রসারিত করবে না, বরং ভবিষ্যতের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক, গবেষক ও শিক্ষকগণের জন্য দিশারূপে কাজ করবে। সিসিআরএএস-এর এই উদ্যোগ প্রাচীন সাহিত্যের ডিজিটাল সংরক্ষণ ও আধুনিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও মজবুত করবে।

Read also:

গেঁটেবাত ও অ্যালোপিউরিনল: হঠাৎ তীব্র যন্ত্রণা ও প্রতিরোধের উপায়