পাক-ভারত যুদ্ধবিরতি: শান্তির পথে মোড়, শেহবাজ ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্পকে

Pak-India ceasefire: Turning point on the path to peace, Shehbaz thanks Trump. Bangla Dehati

বাংলা দেহাতি: 10th May 2025


যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক অভিনন্দন

পাক-ভারত সীমান্তে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসার ঝড় উঠেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, “এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব ও সক্রিয় ভূমিকা অনস্বীকার্য।” এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “এই অর্জনের জন্য পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানায়। আমরা এই শান্তিচুক্তিকে গ্রহণ করেছি আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থে।”

তিনি আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিওকেও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। পাকিস্তান সরকারের মতে, এই চুক্তি উপমহাদেশের দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসনের পথে এক নতুন সূচনা।

পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি এই উদ্যোগকে কূটনীতির বিজয় হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “পাকিস্তান সবসময় শান্তির জন্য সংলাপ ও কূটনীতিকেই একমাত্র পথ বলে মনে করেছে। যুদ্ধ ও হিংসা কোনো সমাধান নয়।” তিনি সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট সকল দেশের ভূমিকা স্বীকার করে দেশের সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর প্রশংসাও করেন।

তুরস্ক ও সৌদি আরবও যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “এই সুযোগে উভয় পক্ষকে প্রত্যক্ষ ও গঠনমূলক সংলাপে যুক্ত হতে হবে।” সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবেইর পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের সঙ্গে ফোনালাপে শান্তি প্রচেষ্টায় সৌদির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

এই প্রেক্ষিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, “ভারত ও পাকিস্তানের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানাই তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার জন্য।” রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের দল এবং বিশেষত সেক্রেটারি রুবিওর ভূমিকাকেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই যুদ্ধবিরতিকে এক ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, “এটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির ভিত্তি স্থাপন করতে পারে এবং আরও বৃহত্তর ও প্রাচীন সমস্যাগুলি সমাধানে সহায়ক হতে পারে।”

ব্রিটেনের বিদেশমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এক্স-এ লিখেছেন, “ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আজকের যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। উভয় পক্ষকেই আহ্বান জানাই এই শান্তি বজায় রাখার জন্য।” একইসঙ্গে, ইউএই-এর ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইউএই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

তবে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বক্তব্য ঘিরে। যেখানে তারা জানিয়েছে, “বর্তমানে অন্য কোনো আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়নি,” যা ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিসরির আগে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এই প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দার দাবি করেন, “আজকের শান্তি আলোচনায় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তুরস্ক ও ইউরোপের মিত্ররাও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিল।” তাঁর কথায়, “এই গোটা প্রক্রিয়া চলেছে ব্যাকগ্রাউন্ড কূটনীতি ও হোয়াটসঅ্যাপ কূটনীতির মাধ্যমে।”

অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্বীকার করেছেন যে, “গোলাগুলি ও সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ করার বিষয়ে বোঝাপড়া হয়েছে।” তবে তিনি আবারও ভারতের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির সন্ধানে এই নতুন অধ্যায় কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, এখন নজর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের উপর। তবে এই মুহূর্তে উপমহাদেশ যেন কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে।

Turkey on Ceasefire

Read More