ভারতীয় গুপ্তচর কুলভূষণ যাদবের আপিলের অধিকার ছিল না, কেবল কনসুলার অ্যাক্সেসই দেওয়া হয়েছিল: পাকিস্তানের সংবিধান বেঞ্চে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাফাই
ইসলামাবাদ | ১৭ এপ্রিল ২০২৫
সুপ্রিম কোর্টে বিতর্ক: আপিলের অধিকার কাদের?
পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের সাত-সদস্যবিশিষ্ট সংবিধান বেঞ্চে বুধবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী খাজা হারিস আহমেদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ভারতীয় গুপ্তচর কুলভূষণ যাদবকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ICJ) ২০১৯ সালের রায়ের আলোকে আপিলের অধিকার দেওয়া হয়নি—শুধুমাত্র কনসুলার অ্যাক্সেসই দেওয়া হয়েছে।
খাজা হারিস বলেন, “হেগে ICJ-তে ভারত দাবি করেছিল যে, কুলভূষণের সঙ্গে কনসুলার অ্যাক্সেস না দিয়ে পাকিস্তান ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে।” সেই প্রেক্ষিতে পাকিস্তান ২০২১ সালে ‘আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (পুনর্বিবেচনা ও পুনরায় পর্যালোচনা) আইন’ প্রণয়ন করে, যার মাধ্যমে সামরিক আদালতের রায় পুনর্বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়।
এই আইনই ছিল কুলভূষণের জন্য একটি “বিশেষ ব্যবস্থা”, বলেন খাজা হারিস। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই অধিকার পাকিস্তানি নাগরিকদের, বিশেষত ২০২৩ সালের ৯ মে-র সহিংসতায় অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে দাবি করা হয়।
এই মামলায় আরও আলোচ্য হয়, কেন বিদেশি নাগরিককে এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে অথচ পাকিস্তানি নাগরিকদের — যারা সামরিক আদালতে দণ্ডিত — সেই একই অধিকার দেওয়া হচ্ছে না।
বিচারপতি আমিনুদ্দিন খানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিচারপতি মুহাম্মদ আলী মাজহার উল্লেখ করেন, ICJ আইনটি আসলে ২০১৭ সালের “সাঈদ জামান খান মামলার” রায়ের ওপর ভিত্তি করেই গঠিত, যেখানে অভিযুক্তদের অধিকতর অধিকার দেওয়া হয়েছিল।
বিচারপতি মুসাররাত হিলালি স্মরণ করেন, পেশোয়ার হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওয়াকার সেথকে ফোনে জানানো হয়েছিল যে তার সেই রায় আন্তর্জাতিক আদালতে পাকিস্তানের পক্ষে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কুলভূষণ যাদব ২০১৬ সালে বেলুচিস্তান থেকে গ্রেফতার হন এবং পাকিস্তানে গুপ্তচরবৃত্তি ও সন্ত্রাসে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। ২০১৭ সালে একটি ফিল্ড জেনারেল কোর্ট মার্শাল (FGCM) তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে, যা তৎকালীন সেনাপ্রধান অনুমোদন করেন।
সামরিক আদালতের প্রক্রিয়া
বিচারপতি জামাল খান ম্যান্ডোখেল প্রশ্ন তোলেন, FIR ছাড়াই কীভাবে কাউকে অভিযুক্ত করা যায়? এর উত্তরে খাজা হারিস বলেন, পাকিস্তান আর্মি অ্যাক্ট (PAA) ১৯৫২-এর ধারা ১৫৭ অনুযায়ী, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তারপর কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়—এক্ষেত্রে FIR বাধ্যতামূলক নয়।
তিনি আরও বলেন, ৯ মে-র অভিযুক্তদের বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে “ন্যায্য” প্রক্রিয়ায় হয়েছে।
এই মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে—বিদেশি নাগরিককে আপিলের সুযোগ দেওয়া হলেও নিজ দেশের নাগরিকদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা কি সংবিধানবিরোধী? বিচারপতিরা এ নিয়ে আরও শুনানি চালাবেন, বিশেষ করে সংবিধানের ১৯৯(৩) অনুচ্ছেদের আলোকে যা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের আদেশ জারির অধিকার সীমিত করে।