ভারত-চীন সম্পর্কের নতুন অগ্রগতি, আঞ্চলিক স্থিতি ও সমৃদ্ধির বার্তা
আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ও চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠক করেন। ওয়াং ই প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং-এর বার্তা ও তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিতব্য সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে সহ-সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২৪তম বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠককে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী সীমান্তে শান্তি ও স্থিতি রক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ভারত একটি ন্যায়সংগত, যুক্তিসঙ্গত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি গত বছর কাজানে রাষ্ট্রপতি শি-র সঙ্গে বৈঠকের পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে তা স্বাগত জানান এবং কৈলাশ মানসসরোবর যাত্রা পুনরারম্ভের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি শি-র প্রেরিত আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তা গ্রহণ করেন এবং জানান যে তিনি তিয়ানজিন সম্মেলনে তার সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন। তিনি বলেন, ভারত-চীনের স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও গঠনমূলক সম্পর্ক কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক শান্তি ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
মোদি বলেন, ভারত ও চীন প্রাচীন সভ্যতা, যাদের মধ্যে শতাব্দীব্যাপী সৌহার্দ্যপূর্ণ আদান-প্রদান চলে আসছে। কাজান বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও বিকাশে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে ভারত ও চীন প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার, এবং উভয়ের লক্ষ্য দ্রুত উন্নয়ন অর্জন। তাই দুই দেশকে সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে যাতে বিশ্বও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনা প্রত্যক্ষ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ বছর ভারত-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বর্ষপূর্তি। দুই দেশকে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ গ্রহণ করে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে। এশীয় শতাব্দীর উত্থান ভারত-চীন সহযোগিতার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত, এবং মানবকল্যাণের জন্য উভয়ের মিলিতভাবে কাজ করা অপরিহার্য।
ওয়াং ই প্রধানমন্ত্রী মোদির SCO সম্মেলনে উপস্থিতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কাজান বৈঠকে যে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য গৃহীত হয়েছিল তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে, এবং এর ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন ধারায় অগ্রসর হচ্ছে। তিনি তার সফরকে দুই দেশের মধ্যে উচ্চস্তরের সংলাপের প্রস্তুতি বলে বর্ণনা করেন এবং জানান যে ভারত ও চীন বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংলাপ পুনরারম্ভ, পারস্পরিক সহযোগিতা গভীরতর করা, বহুপাক্ষিকতাকে সমর্থন করা, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং একতরফা আধিপত্যবাদকে প্রতিহত করার বিষয়ে একমত হয়েছে।
সীমান্ত প্রশ্নে উভয় পক্ষ নতুন ঐকমত্যে পৌঁছেছে যে সীমান্ত অঞ্চলে নিয়মিত ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হবে, শান্তি ও স্থিতি নিশ্চিত করা হবে, সংবেদনশীল পয়েন্টগুলো সাবধানতার সঙ্গে সমাধান করা হবে এবং যেখানে পরিস্থিতি অনুকূল, সেখানে আলোচনার সূচনা করা হবে। ওয়াং ই বলেন, অতীতে উত্থান-পতন অবশ্যই হয়েছে, তবে দুই পক্ষের সর্বদা মনে রাখা উচিত তারা প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারত-চীন সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতি ও উন্নয়নকে উৎসাহিত করবে এবং উভয় দেশের জনগণ এর সুফল ভোগ করবে।
August 20, 2025