বাংলা দেহাতি: 18th May 2025
চলমান আলোচনার মাঝেও গাজায় ইসরায়েলের স্থল ও আকাশ অভিযানে বহু নিহত, হামাসের নতুন প্রস্তাবে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব
২০২৫ সালের ১৮ মে-র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হামাস ও ইসরায়েলের সংঘর্ষে এক নতুন মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিস্ময়কর অবস্থান পরিবর্তন করে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে গাজায় সংঘর্ষ বন্ধের পথে ইসরায়েল অগ্রসর হতে প্রস্তুত। এই শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে—সমস্ত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া, হামাস নেতৃত্বের নির্বাসন, এবং গাজা ভূখণ্ডে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে হামাসের হাতে ৫৮ জন ইসরায়েলি জিম্মি রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অন্তত ২৩ জন জীবিত রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দোহায় এই মুহূর্তে আলোচনা চলছে, যার লক্ষ্য হয় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি, নয়তো একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি।
এই প্রেক্ষাপটে হামাস তাদের পূর্বনির্ধারিত অবস্থানেই অনড়—তারা বলেছে, কেবলমাত্র ইসরায়েলের অস্ত্রবিরতি নিশ্চিত হলে তবেই তারা জিম্মি মুক্তির পথে এগোবে। মিশর, কাতার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এক প্রকার পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে এই বিতর্কিত সমাধানের রাস্তা খোঁজা হচ্ছে। হামাস সম্প্রতি একটি প্রস্তাব দিয়েছে—তারা ৯ জন জিম্মিকে মুক্তি দেবে, যদি ইসরায়েল ৬০ দিনের জন্য অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয় এবং পাশাপাশি ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি, মানবিক সাহায্যের প্রবেশাধিকার ও চিকিৎসা সরবরাহের পথ খুলে দেয়।
তবে আলোচনার ছায়াতেই গাজায় ইসরায়েলের ‘অপারেশন গিডিয়নের চারিয়ট’ নামে এক নতুন স্থল অভিযানের সূচনা হয়েছে। ইসরায়েলি বিমান হানাও আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে বিশেষ করে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও জাবালিয়া অঞ্চলে বহু প্যালেস্টাইনবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ইসরায়েল সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যতক্ষণ না জিম্মিদের মুক্তি ও হামাস নির্মূল হয়, ততক্ষণ এই সামরিক অভিযান চলবে।
এই সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই শত শত প্যালেস্টাইনবাসী নিহত হয়েছেন, এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি চূড়ান্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছে। খাদ্য, ওষুধ, ও জ্বালানির প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে আটকে যাওয়ায় জনজীবন ভেঙে পড়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব সহ আন্তর্জাতিক মহল বারবার একটি স্থায়ী অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানিয়ে ইসরায়েলকে অবরোধ তুলে মানবিক সহায়তা প্রবেশে অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
এদিকে, গোপন সূত্রে এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, হামাস নেতা মোহাম্মদ সিনওয়ার ইসরায়েলের এক বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়ে থাকতে পারেন। যদিও এই তথ্য কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি, তবে এটি সংঘর্ষের গতিপথ ও আলোচনার ভবিষ্যতের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির পরোক্ষ আলোচনা জারি থাকলেও, গাজায় ইসরায়েলের অভিযানের তীব্রতা কমছে না। একদিকে মৃত্যু ও ধ্বংস, অন্যদিকে কূটনৈতিক কথাবার্তা—এই দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য আবারও অনিশ্চয়তার অন্ধকারে নিমজ্জিত। পরিস্থিতি রয়ে গেছে চূড়ান্তরকম উদ্বেগজনক ও অস্থিতিশীল।