৯ম গ্লোবাল টেকনোলজি সামিটে ভাষণ দিলেন বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল

ভারতের শুল্কনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি মূলত অনৈতিকভাবে ব্যবসা করা অ-বাজার অর্থনীতির বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ। তিনি স্পষ্ট করেন, “ভারত বিশ্বাস, পারস্পরিকতা ও ন্যায়নীতিকে মূল্য দেয় এমন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বে প্রস্তুত।”

ভারতের রপ্তানি $৮০০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে এই বছর, প্রধান অবদান পরিষেবা খাতের....Bangla Dehati Patrika


“অদ্বিতীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তুত ভারত” – শ্রী গোয়েল
“RCEP-এ না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজ বাস্তবে সঠিক প্রমাণিত”
“WTO-র কাঠামোর মধ্যে থাকলেও সংস্কার অপরিহার্য”

নয়াদিল্লি, ১১ এপ্রিল:

আজ নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হল ৯ম গ্লোবাল টেকনোলজি সামিট, যেখানে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল প্রধান বক্তা হিসেবে কী-নোট ভাষণ দেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি ভারতের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য নীতি, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থানকে তুলে ধরেন।

“আট গুণ বাড়বে ভারতের অর্থনীতি”

মন্ত্রী বলেন, “আগামী দুই থেকে আড়াই দশকে ভারত তার বর্তমান আকারের আট গুণ বড় হবে। ১৪০ কোটির বেশি ভারতীয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারকে আরও বিস্তৃত করবে। এটি একটি বৈশ্বিক স্কেল তৈরি করছে যা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।”

তিনি জানান, গত দুই বছরে আটটিরও বেশি উচ্চ পর্যায়ের বিদেশি প্রতিনিধিদল ভারত সফর করেছে, যা ভারতের প্রতি বিশ্বব্যাপী আগ্রহের প্রমাণ।

“নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসভাজন অংশীদারদের সঙ্গেই চুক্তি”

ভারতের শুল্কনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি মূলত অনৈতিকভাবে ব্যবসা করা অ-বাজার অর্থনীতির বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ। তিনি স্পষ্ট করেন, “ভারত বিশ্বাস, পারস্পরিকতা ও ন্যায়নীতিকে মূল্য দেয় এমন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বে প্রস্তুত।”

RCEP-এ না যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যথার্থ

চীন প্রসঙ্গে শ্রী গোয়েল বলেন, “ভারত সর্বদা নিজের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে। বর্তমানে চীনের থেকে খুব সামান্য প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) রয়েছে এবং ঐতিহাসিকভাবে তা সবসময়ই সীমিত থেকেছে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০১৯ সালে ভারত যে RCEP-এ যোগ দেয়নি, আজকের বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তা একেবারে সঠিক সিদ্ধান্ত বলেই প্রমাণিত হয়েছে।

WTO কাঠামো ঠিক থাকলেও সংস্কার অপরিহার্য

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) প্রসঙ্গে শ্রী গোয়েল বলেন, “বিশ্বকে একক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা যায় না। উন্নত দেশগুলির যেমন আর্থিক সুরক্ষা রয়েছে, তেমনি উন্নয়নশীল দেশগুলিকে সময় ও সুযোগ দিতে হবে। WTO-কে এই বাস্তবতা স্বীকার করে নিজেদের সংস্কার করতে হবে।”

তিনি WTO-র অধীনে নিম্নলিখিত বিষয়ে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন:

  • ই-কমার্স নীতির স্পষ্টতা
  • কৃষি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা
  • অতিরিক্ত মাছ ধরা সম্পর্কিত ন্যায়সঙ্গত সমাধান

“FTA চুক্তিতে সময়সীমা নয়, চাই জাতীয় স্বার্থ”

FTA (Free Trade Agreement) বিষয়ে মন্ত্রী জানান, চুক্তির সময়সীমা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জাতীয় স্বার্থকে কখনও জলাঞ্জলি দেওয়া যাবে না। “প্রত্যেকটি পদক্ষেপ হতে হবে ন্যায়সঙ্গত ও পরস্পর লাভজনক,” তিনি বলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি, কিন্তু…

ইইউ-র সঙ্গে FTA আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে জলবায়ু সংক্রান্ত কিছু অ-বাণিজ্যিক বিষয়কে শর্ত হিসেবে তুলে ধরা নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। “ইউরোপকে এ ধরনের অ-শুল্ক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। এগুলো কেবল ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের বাণিজ্যের পথেই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে,” সতর্ক করেন তিনি।

 দেহাতি জার্নাল-এর পক্ষ থেকে বলা যায়, এই সামিটে পীযূষ গোয়েলের বক্তব্যে একদিকে যেমন ভারতের অর্থনৈতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি দেখা গেছে, তেমনি বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোতেও ভারতের নেতৃত্বের সম্ভাবনা নতুন করে উজ্জ্বল হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *