ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ভাষণে নতুন নিষেধাজ্ঞার দাবি, জোরালো বার্তা ও সামরিক রদবদলের ঘোষণা
৩ জুন ২০২৫, কিয়েভ: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আজ এক আবেগপূর্ণ ভাষণে ফের স্পষ্টভাবে জানালেন যে রাশিয়া এক মুহূর্তের জন্যও যুদ্ধ থামানোর কথা ভাবছে না। সুমি অঞ্চলে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ জন নিহত ও প্রায় ৩০ জন আহত হওয়ার ঘটনার মধ্যেই তিনি বলেন, “রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে চায় না — তারা প্রতিটি আক্রমণ ও বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের সংকল্পের প্রমাণ দিচ্ছে। এই কারণে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দরকার।”
আহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে। প্রেসিডেন্ট দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “সাধারণ মানুষের বসতবাড়ির উপর হামলা করা একেবারেই অমানবিক। এই মুহূর্তে সুমি অঞ্চলে চিকিৎসকেরা আহতদের জরুরি চিকিৎসা দিচ্ছেন।”
তিনি আরও জানান, “আমেরিকা, ইউরোপ ও বিশ্বের অন্যান্য দেশ শান্তিচুক্তি ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও রাশিয়া তাদের আগ্রাসন চালিয়েই যাচ্ছে। পুতিনের এই নির্লজ্জ আচরণ থামানো যাবে না, যতক্ষণ না তারা এর ভয়াবহ পরিণতি উপলব্ধি করে। তাদের ক্ষয়ক্ষতি অনুভব করাতে হবে।”
এর পাশাপাশি তিনি আমেরিকার সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ও সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথাও জানান। বর্তমানে ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্বিরিদেঙ্কোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে। প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের লক্ষ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে হওয়া সমঝোতাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা— প্রকৃত শান্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার দিক থেকে।”
সামরিক কাঠামোতেও বড় রদবদলের ঘোষণা দেন তিনি। মিখাইলো দ্রপাতিকে সম্মিলিত বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে, যাতে তিনি সরাসরি সম্মুখসারির কাজে মনোনিবেশ করতে পারেন। এছাড়া রবার্ট ব্রোভডিকে ড্রোন ইউনিটের প্রধান করা হয়েছে, ও ওলেহ আপোস্তলকে আকাশ আক্রমণ বাহিনীর কমান্ডার।
ইন্টারন্যাশনাল এটমিক এনার্জি এজেন্সির (IAEA) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি’র সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। “আমরা চেষ্টা করছি যাতে পারমাণবিক কোনো বিপর্যয় না ঘটে। রাশিয়ার দখল পরিস্থিতিকে আগুন নিয়ে খেলা বলা চলে,”—বলেন তিনি।
অবশেষে, রাষ্ট্রপতি ও তাঁর স্ত্রী ওলেনা আজ শিশুদের নিয়ে এক গর্বের মুহূর্তে অংশ নেন, যেখানে ‘ফিউচার অফ ইউক্রেন’ নামক নতুন রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই পুরস্কার দেওয়া হয় এমন শিশুদের, যারা বিপদে অন্যের জীবন বাঁচিয়েছে বা দেশের সেবা করেছে অসাধারণ সাহসে।
তিনি শেষ করেন তাঁর বক্তব্য—”আমরা গর্বিত আমাদের শিশুদের নিয়ে, গর্বিত আমাদের সৈন্যদের নিয়ে। যাঁরা ইউক্রেনের জন্য লড়ছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। গৌরব ইউক্রেনকে!”