তারিখ: ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ | শিবমোগা, কর্ণাটক
শিবমোগা এবং বিদার জেলার সিইটি (কমন এন্ট্রান্স টেস্ট) পরীক্ষাকেন্দ্রে দুই ছাত্রকে তাদের ধর্মীয় পবিত্র সূত্র ‘জেনেউ’ খুলে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বলা হয়। এই ঘটনায় কর্ণাটক রাজ্যে ধর্মীয় সহনশীলতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ও ছাত্রদের পরিবার জানিয়েছে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা পরীক্ষার্থীদের শরীর তল্লাশির সময় ‘জেনেউ’ খুলে ফেলতে বলেন। এমনকি কিছু পরীক্ষার্থীদের অপমানজনক ভাষায় ফটকে ঠেকিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের একাংশ, বিশেষ করে ব্রাহ্মণ সমাজ এই ঘটনাকে ‘অপমানজনক’ এবং ‘ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে। তাদের মতে, এটি হিন্দু সমাজের উপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আঘাত এবং ব্রাহ্মণদের ধর্মীয় অনুশীলনকে ছোট করে দেখা হচ্ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে হিজাব ও বুরখা পরে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়, সেখানে ‘জানেউ’র মতো একটি ক্ষীণ, দৃশ্যমান নয় এমন ধর্মীয় চিহ্ন কীভাবে নিরাপত্তার বাধা হতে পারে?
রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ডঃ এমসি সুধাকর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন,
“শিবমোগা এবং বিদারে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। রাজ্যের কোথাও এমন নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে পরীক্ষার্থীদের ধর্মীয় চিহ্ন খুলে ফেলতে হবে। আমরা সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জেনেউ একটি ধর্মীয় প্রতীক হলেও এটি পরীক্ষার সুশৃঙ্খলতায় কোনও বাধা সৃষ্টি করে না। এটি কোনও প্রযুক্তি বা গ্যাজেট লুকানোর মাধ্যম নয়। কাজেই, জেনেউ ও হিজাবকে একপাল্লায় ফেলা যায় না।”
বিরোধী দল বিজেপি এবং হিন্দু সংগঠনগুলো ঘটনাটিকে কংগ্রেস সরকারের ‘ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশের আড়ালে হিন্দুদের অপমান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এক বিজেপি মুখপাত্র বলেন,
“যেখানে হিজাব ও বুরখা অনুমোদিত, সেখানে ব্রাহ্মণ ছাত্রদের ‘জানেও’ খুলে দিতে বাধ্য করা সরকারের পক্ষপাতিত্বের স্পষ্ট প্রমাণ। এটা শুধুই হিন্দুদের টার্গেট করা নয়, বরং ব্রাহ্মণদের আত্মপরিচয় এবং সম্মানে আঘাত।”
সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই লিখেছেন, “মানুষ হিসেবে কর্ণাটকে হিন্দু হিসেবে বাঁচা কি অপরাধ?” কেউ কেউ লিখেছেন, “আজ জানেও খুলতে বলছে, কাল মঙ্গলসূত্রও খুলতে বলবে?”
এই ঘটনার পর পরীক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং নিরাপত্তা নীতিমালার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষামন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।