বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে ১৪.২ কেজি সোনা উদ্ধার, মোট বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির পরিমাণ ₹১৭.২৯ কোটি
📅 বেঙ্গালুরু, ৬ মার্চ ২০২৫: কন্নড় চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রান্যা রাও-কে বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ₹১২.৫৬ কোটি মূল্যের ১৪.২ কেজি সোনা চোরাচালানের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, তিনি গত এক বছরে ৩০ বার দুবাই সফর করেছেন এবং প্রতি কেজি সোনা চোরাচালানের জন্য ₹১ লাখ পারিশ্রমিক পেতেন।
🔹 কীভাবে ধরা পড়লেন রান্যা রাও?
✅ ডিআরআই (Directorate of Revenue Intelligence) নজরদারির ফলে গ্রেফতার:
🔸 প্রতিবার একই কৌশল: সংশোধিত জ্যাকেট ও কোমরের বেল্ট ব্যবহার করে সোনা পাচার করতেন।
🔸 বারবার বিদেশ সফর: মাত্র এক বছরে ৩০ বার দুবাই সফর করায় সন্দেহ হয়।
🔸 বিমানবন্দরে চেকিং: গোপন সূত্রের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে ডিআরআই-এর বিশেষ স্ক্যানিং অপারেশন চালানো হয়।
✅ বিমানবন্দরে ধরা পড়ার পর কী ঘটেছিল?
🔸 স্থানীয় এক পুলিশ কনস্টেবল তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন।
🔸 কনস্টেবল ডিআরআই অফিসারদের বলেন, “তিনি ডিজিপি-র কন্যা”, কিন্তু কর্মকর্তারা আগেই তথ্য পেয়ে অপেক্ষায় ছিলেন।
🔸 নিরীক্ষার পর সোনা উদ্ধার হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
🔹 রান্যা রাওয়ের বাড়িতে অভিযান: আরও সম্পদ উদ্ধার
বিমানবন্দরে গ্রেফতারের পর ডিআরআই তার বেঙ্গালুরুর লাভেল রোডের বাসভবনে অভিযান চালায়, যেখানে তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকতেন।
🔸 উদ্ধারকৃত সম্পত্তি:
✔ ₹২.০৬ কোটি মূল্যের সোনার গহনা
✔ ₹২.৬৭ কোটি নগদ ভারতীয় মুদ্রা
✔ মোট বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি: ₹১৭.২৯ কোটি, যার মধ্যে ₹৪.৭৩ কোটি টাকার অন্যান্য সম্পদ অন্তর্ভুক্ত
🔹 তদন্তে উঠে এলো ভয়ঙ্কর তথ্য
🔸 প্রতি ট্রিপে ১৩ লাখ টাকা আয় করতেন রান্যা রাও।
🔸 অভিনয়ের পাশাপাশি পাচার চক্রের মূল সদস্য হিসেবে কাজ করছিলেন।
🔸 দুবাই থেকে ভারতে অবৈধভাবে সোনা আনার অন্যতম মূল হোতা ছিলেন।
🔹 রান্যা রাওয়ের বাবা, আইপিএস অফিসার রামচন্দ্র রাওয়ের প্রতিক্রিয়া
গ্রেফতারের ঘটনায় বিস্মিত হয়েছেন রান্যা রাওয়ের বাবা, প্রবীণ আইপিএস অফিসার রামচন্দ্র রাও।
🗣 “আমি সম্পূর্ণ হতবাক। আমি কিছুই জানতাম না, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরেছি। আমার মেয়ে আমাদের সঙ্গে থাকে না, সে স্বামীর সঙ্গে আলাদা থাকে। পারিবারিক কিছু সমস্যার কারণে হয়তো এমন কিছু ঘটেছে। কিন্তু আইন আইনের পথেই চলবে,” ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন তিনি।
🔹রান্যা রাও কাণ্ডে কী হতে পারে?
📌 তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং সোনা পাচার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করা হতে পারে।
📌 বৈধ কাগজপত্র ছাড়া এত পরিমাণ সোনা বহন করায় কড়া শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
📌 আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, তবে এই কেলেঙ্কারি কন্নড় চলচ্চিত্র জগতকে ব্যাপকভাবে নড়েচড়ে বসিয়েছে।
📢 আপনার মতামত কী? এই ঘটনার পেছনে আরও বড় কোনো চক্র কাজ করছে বলে মনে হয়?