নাথুরাম গডসে কেন এখনও প্রাসঙ্গিক? গান্ধী, দেশভাগ ও হিন্দু রাষ্ট্রের বিতর্ক

Nathuram Godse in Indian Politics

নাথুরাম গডসে কেন তরুণদের একাংশের কাছে নতুন করে আলোচিত?

১৬ আগস্ট ২০২৬: নাথুরাম গডসে আজও ভারতীয় রাজনীতিতে একটি অস্বস্তিকর অথচ গুরুত্বপূর্ণ নাম। কারণ তাঁর ব্যক্তিগত অপরাধের বিচার ১৯৪৯ সালের ১৫ নভেম্বরেই শেষ হয়ে গেলেও, তাঁকে ঘিরে যে আদর্শগত প্রশ্ন, তা শেষ হয়নি। ভারত কি মূলত একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, নাকি তার রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কেন্দ্রে থাকবে হিন্দু রাষ্ট্রের ধারণা—এই দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের এক চরম প্রতীক হয়ে উঠেছেন গডসে। তাঁকে স্মরণ করা, তাঁর প্রশংসা করা কিংবা তাঁর রাজনৈতিক যুক্তিকে পুনরায় পরীক্ষা করা—প্রতিটি ঘটনাই তাই শুধু একজন হত্যাকারীর স্মৃতিচর্চা নয়; এগুলি ভারতের স্বাধীনতা, দেশভাগ, গান্ধীর রাজনৈতিক ভূমিকা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার রাজনীতি সম্পর্কে বর্তমান সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রতিফলন।

গডসের নিজের রাজনৈতিক যুক্তির কেন্দ্রবিন্দু ছিল ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং তার ফলে হিন্দুদের ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, বাস্তুচ্যুতি ও সম্পত্তি-হরণের স্মৃতি। তাঁর দাবি ছিল, মহাত্মা গান্ধী মুসলিম নেতৃত্বের প্রতি অতিরিক্ত সহনশীল ছিলেন এবং তাঁর নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান হিন্দুদের স্বার্থকে দুর্বল করেছিল। তিনি গান্ধীকে দেশভাগের জন্য দায়ী করার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাঁকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে “পাকিস্তানের জনক” বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। এই বক্তব্য ঐতিহাসিকভাবে বিতর্কিত হলেও রাজনৈতিকভাবে তার প্রভাব গভীর। কারণ দেশভাগের স্মৃতি কেবল রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়; পাঞ্জাব, বাংলা, সিন্ধ, দিল্লি, বিহার এবং উপমহাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বহু পরিবারের কাছে এটি ব্যক্তিগত ইতিহাস।

১৯৪৮ সালে লালকেল্লায় অনুষ্ঠিত বিচারে গডসে তাঁর অপরাধ অস্বীকার করেননি। বরং তিনি হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক দায় নিজের ওপর গ্রহণ করেন এবং তাঁর বক্তব্যকে আত্মপক্ষসমর্থনের একটি আদর্শগত দলিলে পরিণত করেন। তিনি প্রচলিত অর্থে নিজের পক্ষে আইনজীবীর সক্রিয় প্রতিরক্ষা গ্রহণ করেননি এবং দীর্ঘ লিখিত বক্তব্যে তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল দীর্ঘ, পরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক যুক্তিতে নির্মিত। তিনি দাবি করেছিলেন যে গান্ধীর বিরুদ্ধে তাঁর ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ছিল না; তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সরিয়ে দেওয়া, যাঁর প্রভাবকে তিনি ভারতের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর অতিরিক্ত বলে মনে করতেন।

গডসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তিগুলির একটি ছিল অহিংসার সীমা। তিনি গান্ধীর অহিংসা-কে রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেছিলেন। তাঁর যুক্তিতে, রাষ্ট্র যখন সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, আক্রমণ এবং দেশভাগের মতো পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, তখন নিঃশর্ত অহিংসা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীকে আত্মরক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে। তিনি আরও দাবি করেছিলেন যে গান্ধীর রাজনৈতিক নৈতিক কর্তৃত্ব এতটাই বিস্তৃত হয়েছিল যে তাঁকে সাংবিধানিক বা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কার্যকরভাবে প্রতিহত করার কোনও ব্যবস্থা ছিল না; সেই কারণে তিনি হত্যাকে তাঁর শেষ অবলম্বন হিসেবে উপস্থাপন করেন।

বিশেষ আদালত এবং পরবর্তী আপিল বিচারব্যবস্থা তাঁর যুক্তি গ্রহণ করেনি। হত্যাকাণ্ডকে আদালত পরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করে। ১৯৪৯ সালের ১৫ নভেম্বর আম্বালা সেন্ট্রাল জেলে নাথুরাম গডসে ও নারায়ণ আপটেকে ফাঁসি দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় বিচার সেখানে একটি স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দেয়—রাজনৈতিক মতাদর্শ কোনও ব্যক্তিকে হত্যার অপরাধ থেকে অব্যাহতি দেয় না।

তবু ইতিহাসের একটি বিচারের সমাপ্তি রাজনৈতিক স্মৃতির সমাপ্তি নয়। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গডসের বক্তব্যের কিছু অংশ নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন অর্থ পেতে শুরু করেছে। বিশেষত ডিজিটাল সামাজিক মাধ্যম, দেশভাগের পুনর্মূল্যায়ন এবং স্বাধীনোত্তর ভারতের ইতিহাস সম্পর্কে প্রচলিত বয়ানের প্রতি সন্দেহ এই প্রবণতাকে শক্তিশালী করেছে। সামাজিক মাধ্যমে গডসেকে নিয়ে তৈরি বহু পোস্ট তাঁকে হত্যাকারী হিসেবে নয়, বরং “অপ্রকাশিত সত্যের” বাহক হিসেবে উপস্থাপন করে। প্রচলিত পাঠ্যবই যে প্রশ্নগুলি এড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার আকাঙ্ক্ষা থেকেই অনেক তরুণ গডসের বক্তব্য পড়তে আগ্রহী হচ্ছে।

এই পরিবর্তনকে শুধুমাত্র “গডসেপন্থী উন্মাদনা” বলে উড়িয়ে দেওয়া ভুল হবে। একইভাবে গডসেকে “দেশপ্রেমিক” বলে পুনর্গঠন করাও ইতিহাসের বিচারকে সরলীকরণ। প্রকৃত প্রশ্ন হল—কেন একটি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের রাজনৈতিক যুক্তি কয়েক দশক পরেও নতুন শ্রোতা তৈরি করছে? এর উত্তর খুঁজতে হলে ১৯৪৭-এর দেশভাগের ইতিহাস, মুসলিম লীগের রাজনীতি, পাকিস্তানের সৃষ্টি, কাশ্মীর যুদ্ধ, গান্ধীর শেষ দিকের রাজনৈতিক ভূমিকা, উদ্বাস্তুদের অভিজ্ঞতা এবং স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রগঠনের প্রক্রিয়াকে একসঙ্গে দেখতে হবে।

বিশেষ করে ১৯৪৮ সালের জানুয়ারিতে গান্ধীর অনশন এবং পাকিস্তানকে ভারতের প্রাপ্য অর্থের একটি অংশ—৫৫ কোটি টাকা—প্রদানের প্রশ্নটি গডসের যুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। তাঁর মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত চলাকালীন ভারতের অর্থ পাকিস্তানকে দেওয়া ছিল রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী। কিন্তু এই ঘটনাকে বুঝতে হলে তৎকালীন ভারত-পাকিস্তান আর্থিক নিষ্পত্তির সাংবিধানিক ও চুক্তিগত প্রেক্ষাপটও দেখতে হবে। গান্ধীর অবস্থানকে কেবল “শত্রু রাষ্ট্রকে অর্থ দেওয়া” হিসেবে উপস্থাপন করলে ঐতিহাসিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পড়ে যায়। আবার তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলাও নিষিদ্ধ হতে পারে না। ইতিহাসের পরিণত পাঠ মানে কোনও জাতীয় প্রতীককে প্রশ্নাতীত করা নয়; বরং তাঁর সিদ্ধান্ত, সীমাবদ্ধতা এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে নথির ভিত্তিতে বিচার করা।

গডসের সঙ্গে আরএসএস এবং হিন্দু মহাসভা-র সম্পর্ক নিয়েও একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন। গডসে জীবনের প্রথম পর্যায়ে আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে হিন্দু মহাসভার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৪৮ সালে গান্ধী হত্যার পর ভারত সরকার আরএসএস নিষিদ্ধ করেছিল। সরকারের অভিযোগ ছিল, সংগঠনের পরিবেশ সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষকে উৎসাহিত করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে লিখিত সংবিধান গ্রহণসহ কয়েকটি শর্তের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। অতএব গডসের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পথ, আরএসএসের সাংগঠনিক ইতিহাস এবং হিন্দু মহাসভার রাজনৈতিক অবস্থানকে একই জিনিস হিসেবে দেখলে ইতিহাসের বিশ্লেষণ দুর্বল হয়ে যায়।

আজকের ভারতীয় রাজনীতিতে বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে হিন্দুত্বের রাজনৈতিক উত্থান এবং তার সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর সাংস্কৃতিক রাজনীতির কারণে। আরএসএস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯২৫ সালে কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের উদ্যোগে। পরবর্তী সময়ে তার সাংগঠনিক ও মতাদর্শিক পরিসর বিস্তৃত হয়ে সঙ্ঘ পরিবার গড়ে ওঠে এবং ভারতীয় জনতা পার্টি সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। বিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে গডসের হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করে না এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী রাজনীতির বিস্তারের ফলে সমাজের কিছু অংশে গডসের প্রশংসা করার মানসিক সাহস বেড়েছে। এই অভিযোগকে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করার বদলে সামাজিক বাস্তবতার তথ্য দিয়ে পরীক্ষা করাই বেশি জরুরি।

আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে গডসের আকর্ষণের আরেকটি কারণ হল প্রতিষ্ঠিত জাতীয় প্রতীককে প্রশ্ন করার প্রবণতা। ১৯৯০-এর দশকের পর জন্ম নেওয়া একটি প্রজন্ম স্বাধীনতা সংগ্রাম প্রত্যক্ষ করেনি, দেশভাগও দেখেনি। তাদের কাছে গান্ধী একটি পাঠ্যবইয়ের চরিত্র, আর দেশভাগ একটি ইতিহাসের অধ্যায়। কিন্তু সামাজিক মাধ্যম তাদের সেই ইতিহাসের পারিবারিক স্মৃতি, উদ্বাস্তু-অভিজ্ঞতা এবং বিকল্প রাজনৈতিক ব্যাখ্যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে। ফলে “গান্ধীকে প্রশ্ন করা” অনেকের কাছে রাজনৈতিক বিদ্রোহের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।

বাংলার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। পূর্ববঙ্গের উদ্বাস্তু-অভিজ্ঞতা, সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড, দেশত্যাগ এবং পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি রাষ্ট্রের নিপীড়ন—এই সমস্ত স্মৃতি বাংলার রাজনৈতিক চেতনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ১৯৪৭-এর দেশভাগের স্মৃতি এবং ১৯৭১-এর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে এক করে দেখা ঐতিহাসিকভাবে সঠিক নয়; কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই রাষ্ট্র, ধর্ম, জাতিসত্তা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ নিয়ে বাঙালি সমাজে যে দীর্ঘ বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করা যায় না। তাই বাংলার তরুণদের মধ্যে গডসে সম্পর্কে আগ্রহ থাকলে তার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে বাংলার দেশভাগ, উদ্বাস্তু সমাজ এবং উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িক ইতিহাসের বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যে; সমগ্র বাঙালি যুবসমাজ গডসেকে সমর্থন করে—এমন সাধারণীকরণ তথ্যসম্মত নয়।

২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই বিতর্কের তাৎপর্য আরও বেড়ে যায়। ১৫ আগস্ট একদিকে স্বাধীনতার উদ্‌যাপন, অন্যদিকে দেশভাগের গভীর ক্ষত স্মরণের দিন। এই দিনে গান্ধী ও গডসেকে নিয়ে বিতর্ক হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু স্বাধীন ভারতের অর্থ যদি কেবল একটি ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার রাজনৈতিক রাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ না থেকে সংবিধান, নাগরিক অধিকার, বহুত্ববাদ এবং গণতান্ত্রিক বিরোধিতার অধিকার হয়, তবে গডসের রাজনৈতিক যুক্তিকে পরীক্ষা করার পাশাপাশি তাঁর হত্যাকাণ্ডের নৈতিক ও সাংবিধানিক পরিণতিকেও মনে রাখতে হবে।

গান্ধী ভুলের ঊর্ধ্বে ছিলেন না। তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, মুসলিম নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক, দেশভাগের সময় তাঁর অবস্থান, পাকিস্তানের সঙ্গে আর্থিক নিষ্পত্তি এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে কঠোর ঐতিহাসিক সমালোচনা অবশ্যই করা যায়। কিন্তু গান্ধীর ভুল প্রমাণিত হলেও গডসের হত্যা ন্যায়সঙ্গত হয়ে যায় না। একইভাবে গডসের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করলেই দেশভাগে হিন্দুদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহতার প্রশ্ন বন্ধ করা যায় না।

ভারতের প্রয়োজন তাই গান্ধী বনাম গডসে—এই সরল দ্বন্দ্বের বাইরে গিয়ে ইতিহাসকে পুনরায় পড়া। দেশভাগের মুসলিম ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের শিকারদের স্মৃতি, পাকিস্তানের সৃষ্টি, উদ্বাস্তুদের অভিজ্ঞতা, গান্ধীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, হিন্দু জাতীয়তাবাদের বিকাশ এবং স্বাধীন ভারতের সাংবিধানিক পথ—সবকিছুকে একই ঐতিহাসিক আলোচনায় আনতে হবে। গডসেকে দেবতা বানানো যেমন ইতিহাসের বিকৃতি, তেমনি গান্ধীকে প্রশ্নাতীত করে তোলাও ইতিহাসের প্রতি অবিচার।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত গডসে বা গান্ধী কে “জিতলেন”—তা নয়। প্রশ্ন হল, স্বাধীনতার প্রায় আট দশক পরে ভারত তার রাজনৈতিক মতভেদকে বিতর্ক ও ভোটের মাধ্যমে পরিচালনা করবে, নাকি হত্যার যুক্তিকে রাজনৈতিক নৈতিকতার ভাষা দেবে। গডসের প্রাসঙ্গিকতা সেখানেই। তিনি কেবল অতীতের একজন হত্যাকারী নন; তাঁকে ঘিরে বর্তমানের যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা ভারতীয় গণতন্ত্রের নিজের আয়না। সেই আয়নায় দেশভাগের ক্ষত যেমন দেখা যায়, তেমনই দেখা যায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার আকাঙ্ক্ষা, সংখ্যালঘু-রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় পরিচয় এবং গণতন্ত্রের সীমা নিয়ে স্বাধীন ভারতের অসমাপ্ত বিতর্ক।