শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের নতুন সংকট
বাংলাদেশে, ১৬ আগস্ট ২০২৬: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, নয়াদিল্লি যদি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে না। ঢাকার এই অবস্থান সরাসরি দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে একটি প্রত্যর্পণ মামলাকে যুক্ত করেছে। ফলে দীর্ঘদিনের ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন আবারও শেখ হাসিনার উপস্থিতি ও তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম সম্প্রতি বলেছেন, নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্যের পর বাংলাদেশের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ঢাকার দাবি, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত অন্যান্য পলাতক ব্যক্তিদের বিষয়ে ভারতকে পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশের যুক্তি হল, তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে এমন একটি পরিবেশ প্রয়োজন, যাতে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা ফলপ্রসূ হতে পারে।
এই অবস্থান বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও কূটনৈতিক বিচারে এর মধ্যে একটি বড় ঝুঁকি রয়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সফরকে একটি প্রত্যর্পণ প্রশ্নের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করলে আলোচনার পরিসর সংকুচিত হয়ে যায়। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শেখ হাসিনা-কেন্দ্রিক নয়। দুই দেশের সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সীমান্ত নিরাপত্তা, নদীর জল, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ, রেলপথ, আঞ্চলিক সংযোগ, উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনীতি এবং বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত নিরাপত্তা। একটি ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এই বৃহত্তর স্বার্থগুলিকে পিছনে সরিয়ে দেওয়া বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক নাও হতে পারে।
শেখ হাসিনার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। ভারতের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কও রয়েছে। ফলে তাঁর প্রতি ভারতের একটি রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক সহানুভূতি থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই বাস্তবতাকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের বিকল্প হিসেবে দেখাও ঠিক হবে না। একইভাবে বাংলাদেশ সরকারের উচিত নয় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে শুধুমাত্র শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রশ্নে বিচার করা।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন তীব্র আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়েন এবং ভারতে অবস্থান নেন। তাঁর দেশত্যাগের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে এবং বর্তমান বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চাইছে। শেখ হাসিনা নিজেও জানিয়েছেন, তিনি দেশে ফিরে যেতে প্রস্তুত, এমনকি তাঁকে গ্রেফতার বা কারাবন্দি করা হলেও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশের জনগণের কাছ থেকে দূরে থাকতে চান না।
এই অবস্থায় প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি নিছক রাজনৈতিক দাবি নয়; এটি আইনি ও কূটনৈতিক প্রশ্ন। বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও কোনও প্রত্যর্পণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয় না। সংশ্লিষ্ট অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়ার প্রকৃতি, অপরাধের আইনি সংজ্ঞা, চুক্তির শর্ত এবং প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ব্যতিক্রমগুলি বিবেচনা করতে হয়। বাংলাদেশ যদি মনে করে তার দাবি আইনি দিক থেকে শক্তিশালী, তাহলে সেই দাবির সবচেয়ে কার্যকর ভিত্তি হওয়া উচিত নথি, আদালতের আদেশ এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্বীকৃত প্রক্রিয়া—রাজনৈতিক চাপ নয়।
ভারতের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। নয়াদিল্লি শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে কি না, সেটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দাবির ভিত্তিতে নয়, ভারতের নিজস্ব আইন, প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট মামলার আইনি অবস্থার ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত। কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অথবা কোনও ব্যক্তির সঙ্গে ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতা ভারতের সিদ্ধান্তের একমাত্র ভিত্তি হওয়া উচিত নয়।
এই জায়গায় তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফরকে একটি বড় কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বাংলাদেশের জন্য দিল্লির সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা শুধু বিবৃতি দিয়ে দূর হবে না। উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক বৈঠক, আমলাতান্ত্রিক আলোচনা এবং ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির দিক থেকেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী অর্থনৈতিক অংশীদার। সীমান্ত বাণিজ্য, স্থলবন্দর, রেল ও সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ আমদানি, জ্বালানি সরবরাহ এবং ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশ—এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ বাড়লে আঞ্চলিক বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
তাই বাংলাদেশের সামনে প্রশ্ন হওয়া উচিত—শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কি ভারত সফরের পূর্বশর্ত হবে, নাকি সফরটিকে ব্যবহার করে প্রত্যর্পণসহ সব দ্বিপাক্ষিক প্রশ্ন একসঙ্গে আলোচনায় আনা হবে? দ্বিতীয় পথটি কূটনৈতিকভাবে বেশি কার্যকর। কারণ আলোচনার টেবিলে গেলে বাংলাদেশ একই সঙ্গে সীমান্ত, জল, বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং প্রত্যর্পণের বিষয় তুলতে পারবে।
ভারতেরও এই আলোচনায় কোনও একতরফা রাজনৈতিক শর্ত মেনে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ যদি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চায়, ভারতকে সেই দাবির আইনগত ভিত্তি পরীক্ষা করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যর্পণ প্রশ্নের নিষ্পত্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করারও প্রয়োজন নেই। দুই রাষ্ট্রের স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি ব্যক্তিগত মামলার চেয়ে বড় রাখতে হবে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই মুহূর্তে সংযম প্রয়োজন। বিএনপি দীর্ঘদিনের একটি প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। কিন্তু শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারত-বিরোধী অবস্থানকে যদি দলীয় রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার করা হয়, তাহলে তার ক্ষতি বাংলাদেশেরই হবে। একইভাবে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা বা অতীত নির্বাচনী অবস্থানকে কেন্দ্র করে তাঁকে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার বাইরে রাখা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে জনগণের রাজনৈতিক মতামতই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
অন্যদিকে, বিএনপি বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলকে নিয়ে এমন দাবি করা যে তারা নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে, অথবা নির্দিষ্ট কোনও দল ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে—এসব রাজনৈতিক অভিযোগকে প্রমাণ ছাড়া রাষ্ট্রীয় সত্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হওয়া উচিত নির্বাচন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের রায়ের মাধ্যমে, পরস্পরের বিরুদ্ধে সন্দেহ ও অভিযোগের মাধ্যমে নয়।
বাংলাদেশের জন্য আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্থিতিশীল গণতন্ত্রে শক্তিশালী সরকার এবং শক্তিশালী বিরোধী দল—দুই-ই প্রয়োজন। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। কোনও দল জনপ্রিয় না হলে তার উত্তর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো নয়; বরং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের রাজনৈতিক কারণ খুঁজে বের করা। আবার কোনও দল জনপ্রিয় হলে তার অর্থ এই নয় যে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান সেই দলের রাজনৈতিক ইচ্ছার অধীন হবে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই রাজনৈতিক ভারসাম্য আরও জরুরি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সীমান্ত, বাণিজ্য, নদী, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ—দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি বহুস্তরীয়। কোনও সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে এই বাস্তবতা পরিবর্তিত হয় না। তাই বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের জন্য ভারতের সঙ্গে একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা রাজনৈতিক দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় বাস্তববোধের পরিচয়।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট থাকতে পারে। বাংলাদেশ চাইলে ভারতকে প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে তার অনুরোধ বিবেচনা করতে বলতে পারে এবং প্রয়োজনীয় নথি ও আইনি তথ্য দিতে পারে। কিন্তু সেই দাবিকে তারেক রহমানের ভারত সফরের একমাত্র দরজা হিসেবে ব্যবহার করা হলে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নষ্ট হতে পারে।
এখানে ভারতের দায়িত্বও কম নয়। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতার ভিত্তিতে পুনর্গঠন করতে হবে। ভারতের উচিত বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়ে আলোচনা করা এবং একই সঙ্গে শেখ হাসিনার বিষয়টি পৃথক আইনি কাঠামোর মধ্যে রাখা। কোনও ব্যক্তির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক—এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখা কূটনৈতিকভাবে বিচক্ষণ হবে না।
তারেক রহমানের ভারত সফর শেষ পর্যন্ত হবে কি না, তা এখনও রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়। কিন্তু সফরটি হলে সেটিকে শুধু শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে দর-কষাকষির বৈঠকে পরিণত করা উচিত নয়। এই সফর হতে পারে দুই দেশের মধ্যে জমে থাকা অবিশ্বাস কমানোর একটি সুযোগ। বাংলাদেশ তার আইনি দাবি রাখবে, ভারত তার অবস্থান ব্যাখ্যা করবে, আর একই সঙ্গে দুই দেশ অর্থনীতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রশ্নে নতুন সমঝোতার দিকে এগোতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রয়োজন আবেগের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় বাস্তববাদ। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশের দাবি রাজনৈতিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অবস্থান কোনও একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক ভাগ্যের ওপর নির্ভর করতে পারে না।
ঢাকার উচিত দিল্লির সঙ্গে দরজা খোলা রাখা। নয়াদিল্লিরও উচিত কোনও রাজনৈতিক পক্ষের চাপের কাছে না গিয়ে আইন ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আর দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের উচিত বোঝা—শেখ হাসিনাকে ঘিরে বর্তমান সংকট সাময়িক; কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্থায়ী।
এই কারণেই তারেক রহমানের ভারত সফরকে শর্তের রাজনীতিতে আটকে না রেখে আলোচনার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা বাংলাদেশের জন্য বেশি লাভজনক হতে পারে। প্রত্যর্পণের প্রশ্নটি থাকবে, বিচারপ্রক্রিয়ার প্রশ্ন থাকবে, রাজনৈতিক মতপার্থক্যও থাকবে। কিন্তু আলোচনার টেবিল বন্ধ হয়ে গেলে কোনও প্রশ্নেরই সমাধান হবে না। দক্ষিণ এশিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রতিবেশীর ক্ষেত্রে এখন প্রয়োজন পরস্পরকে পরাজিত করার কূটনীতি নয়, বরং নিজ নিজ স্বার্থ রক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ খুঁজে নেওয়া।