দেহাতি: ১০ আগস্ট, ২০২৫
পুলিশের রণসাজ, বিরোধী নেতাদের অংশগ্রহণ, সিপিএম ও জুনিয়র ডাক্তারদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ অভয়ার পরিবার
আবারও পথে জনতা। অভয়া কাণ্ডের এক বছর পূর্তিতে ৯ আগস্ট ২০২৫-এর নবান্ন অভিযানে ধর্মতলা থেকে রওনা দেওয়া মিছিলে ছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। শুরুতে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, জোয়েল মুর্মু, আশিস বিশ্বাস প্রমুখ। পরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, শঙ্কর ঘোষ, সুব্রত ঠাকুর, অশোক দিন্দা, নীলাদ্রিশেখর দানা-সহ একাধিক বিধায়ক যোগ দেন। নবান্ন অভিযান আটকাতে সকাল থেকেই রণসাজে ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ। পরে সরাসরি এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ হয়, আহত হন অভয়ার মা। রাস্তায় ফেলে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। আহত অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয় মেডিকা হাসপাতালে।
অভয়ার বাবা অভিযোগ করেন, অরাজনৈতিক আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলেও সিপিএম নিয়ন্ত্রিত অভয়া মঞ্চ আলাদা কর্মসূচি করেছে। জুনিয়র ডাক্তাররা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে অভয়ার প্রসঙ্গ তোলেননি, বরং নিজেদের কলেজ নির্বাচন ও দলীয় স্বার্থে বেশি আগ্রহী ছিলেন। SUCI-র ঘনিষ্ঠ কিছু ডাক্তার নবান্ন অভিযান এড়িয়ে গিয়েছেন। অভয়ার পরিবার বাম দলগুলির দপ্তরে গিয়ে নবান্ন অভিযানে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁরা কালীঘাট অভিযান নামে সমান্তরাল কর্মসূচি করেছেন।
সি বি আই তদন্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভয়ার বাবা—যাঁরা প্রমাণ নষ্ট করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তৃণমূলের শশী পাঁজা মন্তব্য করেন, নবান্ন অভিযানে যোগ দেওয়া অধিকাংশই ‘বাঙালি সংস্কৃতি বোঝেন না’ এবং বাইরের লোক। কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করে লেখেন, বিজেপির নেতারা ক্যামেরায় মুখ দেখতে গিয়ে নির্যাতিতার মাকে ধাক্কা দিয়েছে, যা অভয়ার বাবা কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ অভিযোগ করেন, অভয়ার মা পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, নবান্নের চারপাশে ১৬৩ ধারা জারি থাকায় সেখানে মিছিল নিয়ে যাওয়া বেআইনি, তাই রাস্তায় প্রাচীর তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু অভয়ার মা-বাবার ডাকে সাড়া দিয়ে বিজেপি সমর্থকরা ধর্মতলা থেকে নবান্নমুখী মিছিলে যোগ দেন, যার মধ্যেই সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কের ঝড় বয়ে যায়।
Read more
নবান্ন অভিযান ঘিরে লোহার প্রাচীর, আরজি কর কাণ্ডে ন্যায়বিচারের দাবিতে উত্তাল বাংলা